social post cover

কেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন ব্যক্তিগত সহায়তা দিতে পারে না?

৪ আগস্ট, ২০২৬, বিকাল ০৫:৩৮

কেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন ব্যক্তিগত সহায়তা দিতে পারে না?



প্রতিদিন আমাদের কাছে অসংখ্য মানুষের আবেদন আসে। সরাসরি অফিসে, ফেসবুকে কিংবা ইমেইলে। 


কেউ ৫ হাজার টাকার ঋণে দিশেহারা, কারো ঋণ আবার ৫০ কোটি টাকা। 


প্রতিটি আবেদনই সংবেদনশীল, আমাদেরকে ব্যথিত করে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রতিদিন যে পরিমাণ আবেদন আসে, তার মোট পরিমাণ আমাদের পুরো বছরের বাজেটের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি।


বিশাল জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশের পুরো বছরের মোট জাতীয় বাজেট প্রায় ৯ লক্ষ কোটি টাকা। এই বিপুল পরিমাণ বাজেটের পরও মানুষের বহুমুখী সমস্যা ও স্বাস্থ্য খাতের সংকট পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হয় না। 


সেখানে বছরে মাত্র ১০০ কোটি টাকা বাজেটের একটি চ্যারিটি প্রতিষ্ঠান থেকে সব ধরনের ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধান আশা করা বাস্তবসম্মত নয়। চাহিদার মহাসমুদ্রের বিপরীতে আমাদের সামর্থ্য অত্যন্ত সীমিত।


এই সীমিত বাজেট দিয়ে যদি আমরা ব্যক্তিগত ঋণ বা চিকিৎসার জন্য সরাসরি নগদ অর্থ বিতরণ শুরু করি, তবে বড় একটি নীতিগত ও প্রশাসনিক সংকট তৈরি হবে। 


দেখা যাবে, বিভিন্ন সুপারিশ, তদবির বা চেনাজানার বৃত্তেই পুরো তহবিল শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে সেই প্রান্তিক অভাবী মানুষ, যার সুপারিশ করার কেউ নেই, সেই মানুষগুলো পুরোপুরি বঞ্চিত হবে। যা কখনো একটি আদর্শ চ্যারিটি প্রতিষ্ঠানের নীতি হতে পারে না।


আমরা মনে করি, একটি প্রতিষ্ঠানের কাজ কেবল তাৎক্ষণিক টাকা বিতরণ করা নয়। বরং দাতার আমানতের সর্বোচ্চ ‘ভ্যালু ক্রিয়েট’ করা। যা একজন দাতার ব্যক্তিগত উদ্যোগে করা সম্ভব নয়।


একটি বাস্তব উদাহরণ দেওয়া যাক। গত বছর আমরা ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬ টি ট্রেডে ২,১০০ জনেরও বেশি নারী-পুরুষকে কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়েছি। 


আলহামদুলিল্লাহ, প্রথম বছর শেষেই সেই শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে আয় করেছেন প্রায় ৪২ কোটি টাকা, যা প্রতি বছর বাড়তেই থাকবে।


১৩ কোটি টাকা সরাসরি বিলিয়ে দিলে মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে উপকৃত হতেন এবং টাকাটা ওখানেই শেষ হয়ে যেত। 


কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক পরিকল্পনার কারণে সেই একই টাকা একসময় হাজার কোটি টাকার স্থায়ী কল্যাণে রূপ নেবে, ইনশাআল্লাহ। 


কাউকে প্রতিদিন মাছ কিনে দেওয়ার চেয়ে তাকে মাছ ধরা শিখিয়ে দেয়া আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের মূল দর্শন।


হ্যাঁ, ব্যক্তিগতভাবে ঋণগ্রস্তকে সাহায্য করা বা চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ কাজ। 


তবে এক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক স্তরের চেয়ে ব্যক্তিগত বা এলাকাভিত্তিক উদ্যোগ বেশি কার্যকর। 


কেন আমরা প্রজেক্টভিত্তিক কাজ করি? 


এর প্রধান কারণ স্বচ্ছতা। কোন খাতের অনুদান কোন প্রজেক্টে ব্যয় হবে, তা আমাদের ওয়েবসাইটে স্পষ্ট উল্লেখ থাকে। ফলে দাতার আমানত খেয়ানত হওয়ার সুযোগ নেই।


আরেকটি কারণ ইনসাফ। প্রতিটি প্রজেক্টে নির্ধারিত নিয়মে আমাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট এবং ফেসবুক পেজে ঘোষণা দিয়ে উন্মুক্ত আবেদন আহ্বান করা হয়। এরপর মাঠপর্যায়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত হকদারদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেয়া হয়। এখানে স্বজনপ্রীতি বা সুপারিশের কোনো স্থান নেই।


আল্লাহর রহমতের পর আপনাদের দোয়া, আস্থা ও ভালোবাসাই আমাদের পথচলার মূল শক্তি। আল্লাহ আমাদের সবার নেক প্রচেষ্টাগুলো কবুল করুন। আমীন।